রাফেযী শী‘আদের বিভ্রান্তি: মুসলিম উম্মাহর জন্য বিষফোঁড়া (৩য় কিস্তি)

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন

রাফেযী শী‘আদের বিভ্রান্তি: মুসলিম উম্মাহর জন্য বিষফোঁড়া 

- ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান 


(৩য় কিস্তি) 

মাশহাদ বা মাযারের আনুষ্ঠানিকতা

রাফেযীদের সম্পর্কে সুপরিচিত বক্তব্য যে, তারা কবর ও মাশহাদ (মাযার)-কে অত্যন্ত মর্যাদা দেয় এবং মসজিদের গুরুত্ব হ্রাস করে। শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (৬৬১-৭২৮ হি./১২৬৩-১৩২৮ খ্রি.) (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

فَتَجِدُهُمْ يُعَطِّلُوْنَ الْمَسَاجِدَ الَّتِيْ أَمَرَ اللهُ أَنْ تُرْفَعَ وَيُذْكَرَ فِيْهَا اسْمُهُ، فَلَا يُصَلُّوْنَ فِيْهَا جُمْعَةً وَلَا جَمَاعَةً، وَلَيْسَ لَهَا عِنْدَهُمْ كَبِيْرُ حُرْمَةٍ، وَإِنْ صَلَّوْا فِيْهَا صَلَّوْا فِيْهَا وُحْدَانًا، وَيُعَظِّمُوْنَ الْمَشَاهِدَ الْمَبْنِيَّةَ عَلَى الْقُبُوْرِ فَيَعْكُفُوْنَ عَلَيْهَا مُشَابَهَةً لِلْمُشْرِكِيْنَ، وَيَحُجُّوْنَ إِلَيْهَا كَمَا يَحُجُّ الْحَاجُّ إِلَى الْبَيْتِ الْعَتِيْقِ، وَمِنْهُمْ مَنْ يَجْعَلُ الْحَجَّ إِلَيْهَا أَعْظَمَ مِنَ الْحَجِّ إِلَى الْكَعْبَةِ

‘তুমি তাদেরকে এমন দেখতে পাবে যে, তারা সেই মসজিদগুলোকে পরিত্যক্ত করে রাখে, যেগুলোকে আল্লাহ মর্যাদা দান ও সেখানে তাঁর নাম স্মরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। সেখানে তারা জুমু‘আহ বা জামা‘আতের ছালাত আদায় করে না। তাদের কাছে এসব মসজিদের বিশেষ কোন মর্যাদা নেই। যদি ছালাত আদায়ও করে, তবে একাকী আদায় করে। পক্ষান্তরে, কবরের ওপর নির্মিত মাশহাদ বা মাযারগুলোকে তারা অত্যন্ত সম্মান করে, সেগুলোর কাছে অবস্থান করে, যা মুশরিকদের আচরণের অনুরূপ। তারা সেসব স্থানে এমনভাবে যাত্রা করে, যেমন হাজীরা বাইতুল আতীক্ব (কা‘বা)-র উদ্দেশে হজ্জ করতে যায়। বরং তাদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যারা ঐসব স্থানে যাওয়াকে কা‘বা শরীফে হজ্জ করার চেয়েও অধিক মর্যাদাপূর্ণ মনে করে’।[১]

ছাহাবীগণের প্রতি মারাত্মক বিদ্বেষ

রাফেযী শী‘আরা ছাহাবীগণের প্রতি মারাত্মক পর্যায়ের বিদ্বেষ পোষণ করে থাকে। তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অল্প কিছু সংখ্যক ব্যতীত অধিকাংশ ছাহাবীর প্রতি আপত্তি ও সমালোচনা করে থাকে। এর মাধ্যমে তারা মূলত ইসলামের দ্বীনকেই আঘাত করতে এবং মুসলিমদের শরী‘আতের ভিত্তিকে দুর্বল করতে চেয়েছে। আল্লাহ যাঁদের পবিত্রতা ঘোষণা করেছেন, তাঁদের সম্পর্কে নিন্দা করার দুঃসাহস তারা কীভাবে করে? ইমাম আবু যুর‘আহ আর-রাযী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

إِذَا رَأَيْتَ الرَّجُلَ يَنْتَقِصُ أَحَدًا مِنْ أَصْحَابِ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ فَاعْلَمْ أَنَّهُ زِنْدِيْقٌ وَذَلِكَ أَنَّ الرَّسُوْلَ ﷺ عِنْدَنَا حَقٌّ وَالْقُرْآنَ حَقٌّ وَإِنَّمَا أَدَّى إِلَيْنَا هَذَا الْقُرْآنَ وَالسُّنَنَ أَصْحَابُ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ وَإِنَّمَا يُرِيْدُوْنَ أَنْ يُجَرِّحُوْا شُهُوْدَنَا لِيُبْطِلُوا الْكِتَابَ وَالسُّنَّةَ وَالْجَرْحُ بِهِمْ أَوْلَى وَهُمْ زَنَادِقَةٌ

‘যখন তুমি এমন কাউকে দেখবে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ছাহাবীদের কারও সমালোচনা বা নিন্দা করে, তখন জেনে রাখবে, সে একজন যিন্দীক[২]। কারণ, আমাদের কাছে রাসূল সত্য, কুরআন সত্য; আর এই কুরআন ও সুন্নাহ আমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ছাহাবীগণ। তারা মূলত আমাদের সাক্ষীদের তথা ছাহাবীদের অযোগ্য প্রমাণ করতে চায়, যাতে কুরআন ও সুন্নাহকে অকার্যকর করা যায়। অতএব, সমালোচনার অধিক উপযুক্ত তারাই; কারণ তারা যিন্দীক’।[৩] ইমাম আবু বকর ইবনুল আরাবী আল-মালিকী (১০৭৬-১১৪৮ খ্রি.)  (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

مَا رَضِيَتِ النَّصَارَى وَالْيَهُوْدُ فِيْ أَصْحَابِ مُوْسَى وَعِيْسَى مَا رَضِيَتِ الرَّوَافِضُ فِيْ أَصْحَابِ مُحَمَّدٍ ﷺ، حِيْنَ حَكَمُوْا عَلَيْهِمْ بِأَنَّهُمْ قَدِ اتَّفَقُوْا عَلَى الْكُفْرِ وَالْبَاطِلِ

‘ইহুদী ও খ্রিস্টানরা মূসা (আলাইহিস সালাম) ও ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর ছাহাবীদের সম্পর্কে যতটুকু বলেনি, রাফেযিরা মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর ছাহাবীদের সম্পর্কে তার চেয়েও কঠোর কথা বলেছে। যেমন তারা বলেছে যে, ছাহাবীগণ সম্মিলিতভাবে কুফর ও বাতিলের ওপর একমত হয়েছিলেন’।[৪]

ছাহাবীদের প্রতি বিদ্বেষের কারণে তাদের সম্পর্কে আলেমগণ কুফরীর বিধানারোপ করেছেন। অনেক আলেম এ দলটির ব্যাপারে কঠোর বক্তব্য প্রদান করেছেন। খাল্লাল তাঁর সনদে ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন,

الَّذِيْ يَشْتِمُ أَصْحَابَ النَّبِيِّ ﷺ لَيْسَ لَهُ سَهْمٌ، أَوْ قَالَ: نَصِيْبٌ فِي الْإِسْلَامِ

‘যে ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর ছাহাবীদের গালি দেয়, ইসলামে তার কোন অংশ নেই’।[৫] ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল (রাহিমাহুল্লাহ)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, যে ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর কোন ছাহাবীকে গালি দেয়, তার ব্যাপারে আপনার মত কী? তিনি বলেন, مَا أُرَاهُ عَلَى الْإِسْلَامِ ‘আমি তাকে ইসলামের ওপর আছে বলে মনে করি না’।[৬] আবুল মাহাসিন আল-ওয়াসিতী বলেন,

إِنَّهُمْ يَكْفُرُوْنَ بِتَكْفِيْرِهِمْ لِصَحَابَةِ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ، الثَّابِتِ تَعْدِيْلُهُمْ وَتَزْكِيَتُهُمْ فِي الْقُرْآنِ بِقَوْلِهِ تَعَالَى: ﴿لِّتَکُوۡنُوۡا شُہَدَآءَ عَلَی النَّاسِ﴾ [الْبَقَرَةِ: ١٤٣]، وَبِشَهَادَةِ اللهِ تَعَالَى لَهُمْ أَنَّهُمْ لَا يَكْفُرُوْنَ، بِقَوْلِهِ تَعَالَى: ﴿ فَاِنۡ یَّکۡفُرۡ بِہَا ہٰۤؤُلَآءِ  فَقَدۡ وَکَّلۡنَا بِہَا قَوۡمًا لَّیۡسُوۡا بِہَا بِکٰفِرِیۡنَ﴾.


‘রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ছাহাবীদের তাকফীর করার কারণেই তারা কাফির হয়। কারণ, কুরআনে আল্লাহ তাদের ন্যায়পরায়ণতা ও প্রশংসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি বলেছেন, لِّتَکُوۡنُوۡا شُہَدَآءَ عَلَی النَّاسِ ‘যাতে তোমরা মানবজাতির ওপর সাক্ষী হও’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ১৪৩)। আল্লাহ তা‘আলা আরও সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তারা কুফরী করবে না। তিনি বলেছেন, فَاِنۡ یَّکۡفُرۡ بِہَا ہٰۤؤُلَآءِ  فَقَدۡ وَکَّلۡنَا بِہَا قَوۡمًا لَّیۡسُوۡا بِہَا بِکٰفِرِیۡنَ ‘যদি এরা তা অস্বীকার করে, তবে আমরা এমন এক সম্প্রদায়কে এর দায়িত্ব দিয়েছি, যারা কখনোই তা অস্বীকার করবে না’ (সূরা আল-আন‘আম : ৮৯)’।[৭]

ইমাম আশ-শাওকানী (১১৭৩-১২৫০ হি./১৭৫৯-১৮৩৪ খ্রি.) (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

أَصْلُ دَعْوَتِهِمْ -أَيْ: الرَّوَافِضِ- لِكَيْدِ الدِّيْنِ، وَمُخَالَفَةِ شَرِيْعَةِ الْمُسْلِمِيْنَ، ৃ فَعَرَفْتَ بِهَذَا أَنَّ كُلَّ رَافِضِيٍّ خَبِيْثٍ عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ يَصِيْرُ كَافِرًا بِتَكْفِيْرِهِمْ لِصَحَابِيٍّ وَاحِدٍ، ৃ فَكَيْفَ بِمَنْ كَفَّرَ كُلَّ الصَّحَابَةِ، وَاسْتَثْنَى أَفْرَادًا يَسِيْرَةً؟

‘রাফেযীদের মূল দাওয়াতই হলো দ্বীনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা এবং মুসলিমদের শরী‘আতের বিরোধিতা করা। ... অতএব, তুমি বুঝতে পারলে যে, পৃথিবীর প্রত্যেক রাফিযী একজন ছাহাবীকেও কাফির বললে সে নিজেই কাফির হয়ে যায়। তাহলে যে ব্যক্তি প্রায় সমস্ত ছাহাবীকেই কাফির বলেছে এবং মাত্র অল্প কয়েকজনকে ব্যতিক্রম করেছে, তার অবস্থা কেমন হবে!’[৮]

মু‘আবিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু) : ছাহাবীদের আবরণ

ছাহাবীদের সম্পর্কে হাদীছে যে সকল ফযীলত বর্ণিত হয়েছে, তা সামগ্রিকভাবে সকল ছাহাবীর জন্য প্রযোজ্য। তাই একজন ছাহাবীর প্রতি আক্রমণ করা মানে মূলত সকল ছাহাবীর প্রতিই আক্রমণ করা। এ কারণেই মু‘আবিয়া ইবনু আবী সুফিয়ান (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর প্রতি ভালোবাসাকে আহলুস সুন্নাহর একটি পরিচায়ক হিসাবে গণ্য করা হয়েছে। ইমাম আন-নাসাঈ (রাহিমাহুল্লাহ)-কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ছাহাবী মু‘আবিয়া ইবনু আবী সুফিয়ান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন,

إِنَّمَا الْإِسْلَامُ كَدَارٍ لَهَا بَابٌ، فَبَابُ الْإِسْلَامِ الصَّحَابَةُ، فَمَنْ آذَى الصَّحَابَةَ إِنَّمَا أَرَادَ الْإِسْلَامَ، كَمَنْ نَقَرَ الْبَابَ إِنَّمَا يُرِيدُ دُخُولَ الدَّارِ. قَالَ: فَمَنْ أَرَادَ مُعَاوِيَةَ فَإِنَّمَا أَرَادَ الصَّحَابَةَ

‘ইসলাম একটি ঘরের মত, যার একটি দরজা রয়েছে। ইসলামের সেই দরজা হল ছাহাবীগণ। যে ব্যক্তি ছাহাবীদের কষ্ট দেয়, সে মূলত ইসলামকেই আঘাত করতে চায়। যেমন কেউ দরজায় আঘাত করলে, তার উদ্দেশ্য ঘরে প্রবেশ করা। অতএব, যে ব্যক্তি মু‘আবিয়াকে লক্ষ্য করে, সে আসলে সমস্ত ছাহাবীকেই লক্ষ্য করে’।[৯] এর কারণ ব্যাখ্যা করে রাবী‘ ইবন নাফি‘ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

مُعَاوِيَةُ بْنُ أَبِيْ سُفْيَانَ سِتْرُ أَصْحَابِ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ، فَإِذَا كَشَفَ الرَّجُلُ السِّتْرَ اجْتَرَأَ عَلَى مَا وَرَاءَهُ

‘মু‘আবিয়া ইবনু আবী সুফিয়ান (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ছাহাবীদের আবরণস্বরূপ। যখন কোন ব্যক্তি এই আবরণ সরিয়ে ফেলে, তখন সে এর পেছনে যা আছে (অর্থাৎ অন্য ছাহাবীদের) সম্পর্কেও দুঃসাহস দেখাতে শুরু করে’।[১০]

পবিত্র ও মর্যাদাশীলা উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ আরোপ

অধিকাংশ শী‘আ এখনো উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর প্রতি ব্যভিচারের অপবাদ আরোপের অবস্থানে অনড় রয়েছে (আস্তাগফিরুল্লাহ), যদিও আল্লাহ তা‘আলা তাঁর পবিত্রতা কুরআনুল কারীমে সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন। শী‘আদের এই বিশ্বাস সুস্পষ্ট কুফর। ইমাম ইবনু হাজার আল-হাইতামী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

مَنْ نَسَبَ عَائِشَةَ إِلَى الزِّنَا كَانَ كَافِرًا، وَهُوَ مَا صَرَّحَ بِهِ أَئِمَّتُنَا وَغَيْرُهُمْ؛ لِأَنَّ فِي ذَلِكَ تَكْذِيْبَ النُّصُوْصِ الْقُرْآنِيَّةِ، وَمُكَذِّبُهَا كَافِرٌ بِإِجْمَاعِ الْمُسْلِمِيْنَ، وَبِهِ يُعْلَمُ الْقَطْعُ بِكُفْرِ كَثِيْرِيْنَ مِنْ غُلَاةِ الرَّوَافِضِ

‘যে ব্যক্তি আয়েশা (আলাইহিস সালাম)-এর প্রতি ব্যভিচারের অপবাদ আরোপ করবে, সে কাফির। আমাদের ইমামগণ এবং অন্যান্য আলেমও এ কথাই স্পষ্টভাবে বলেছেন। কারণ, এতে কুরআনের সুস্পষ্ট বক্তব্যকে অস্বীকার করা হয়। আর যে কুরআনের বক্তব্য অস্বীকার করে, সে মুসলিমদের সর্বসম্মতিক্রমে কাফির। এর দ্বারা আরও জানা যায় যে, রাফেযীদের বহু চরমপন্থী দল নিশ্চিতভাবে কাফির’।[১১] এমনকি তাঁর পবিত্রতা সম্পর্কে কেউ যদি সন্দেহও পোষণ করে, তবুও সে কাফির হয়ে যায়। ইমাম আন-নববী (৬৩১-৬৭৬ হি.) (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

بَرَاءَةُ عَائِشَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهَا مِنَ الْإِفْكِ وَهِيَ بَرَاءَةٌ قَطْعِيَّةٌ بِنَصِّ الْقُرْآنِ الْعَزِيْزِ فَلَوْ تَشَكَّكَ فِيْهَا إِنْسَانٌ وَالْعِيَاذُ بِاَللهِ صَارَ كَافِرًا مُرْتَدًّا بِإِجْمَاعِ الْمُسْلِمِيْنَ

‘আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর ‘ইফক’-এর (অপবাদ) ঘটনা থেকে পবিত্রতা কুরআনের সুস্পষ্ট ঘোষণার মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত। অতএব, কেউ যদি ‘আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন’ এ বিষয়ে সামান্যও সন্দেহ পোষণ করে, তবে মুসলিমদের সর্বসম্মতিক্রমে সে কাফির ও মুরতাদ হয়ে যাবে’।[১২]

শী‘আদের নির্বুদ্ধিতা

বহু আলেম এই সম্প্রদায়ের নির্বুদ্ধিতা ও অদূরদর্শিতা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন। ইমাম আশ-শা‘বী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

نَظَرْتُ فِي هَذِهِ الْأَهْوَاءِ، وَكَلَّمْتُ أَهْلَهَا، فَلَمْ أَرَ قَوْمًا أَقَلَّ عُقُولًا مِنَ الْخَشَبِيَّةِ

‘আমি বিভিন্ন ভ্রান্ত মতবাদ পর্যালোচনা করেছি এবং তাদের অনুসারীদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। কিন্তু ‘খাশাবিয়্যা’[১৩] (রাফিযাদের একটি উপগোষ্ঠী)-এর চেয়ে কম বুদ্ধিসম্পন্ন কোন সম্প্রদায় আমি দেখিনি’।[১৪] শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ইমাম শা‘বী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন,

مَا رَأَيْتُ أَحْمَقَ مِنَ الْخَشَبِيَّةِ، لَوْ كَانُوْا مِنَ الطَّيْرِ لَكَانُوْا رَخَمًا، وَلَوْ كَانُوْا مِنَ الْبَهَائِمِ لَكَانُوْا حُمُرًا

‘আমি খাশাবিয়্যাহ (الخشبية) অপেক্ষা অধিক নির্বোধ আর কাউকে দেখিনি। তারা যদি পাখি হত, তবে শকুন হত; আর যদি চতুষ্পদ জন্তু হত, তবে গাধা হত’।[১৫] আবূ উবাইদ আল-কাসিম ইবনু সাল্লাম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

عَاشَرْتُ النَّاسَ وَكَلَّمْتُ أَهْلَ الْكَلَامِ، فَمَا رَأَيْتُ قَوْمًا أَوْسَخَ وَسَخًا، وَلَا أَضْعَفَ حُجَّةً مِنَ الرَّافِضَةِ، وَلَا أَحْمَقَ مِنْهُمْ

‘আমি মানুষের সঙ্গে বসবাস করেছি এবং আলেমদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। কিন্তু রাফেযীদের চেয়ে অধিক নিকৃষ্ট, অধিক দুর্বল যুক্তির অধিকারী এবং অধিক নির্বোধ কোন সম্প্রদায় আমি দেখিনি’।[১৬]

আশূরার বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানে এবং তাদের কিছু ব্যতিক্রমধর্মী ও অস্বাভাবিক ফতোয়ায় এর প্রতিফলন দেখা যায়। মাহমুদ শুকরী আল-আলূসী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

وَأَيْنَ هُمْ مِنْ لَطْمِ الْخُدُوْدِ، وَشَقِّ الْجُيُوْبِ، وَالدُّعَاءِ بِدَعْوَى الْجَاهِلِيَّةِ، وَغَيْرِ ذَلِكَ مِنَ الْفَضَائِحِ الَّتِيْ تَصْدُرُ مِنْهُمْ فِيْ مُحَرَّمٍ وَغَيْرِهِ، حَتَّى صَارُوْا بِهَا مَثُلَةً بَيْنَ الْأَنَامِ، وَأُضْحُوْكَةً بَيْنَ الْخَاصِّ وَالْعَامِّ

‘গালে চপেটাঘাত করা, জামার বুক ছিঁড়ে ফেলা, জাহিলিয়াতের ধাঁচে বিলাপ করা এবং মুহররমসহ অন্যান্য সময়ে তাদের থেকে প্রকাশিত নানা কর্মকাণ্ডের কথা আর কী বলা! এসব কারণে তারা মানুষের মধ্যে উপহাসের পাত্রে পরিণত হয়েছে; বিশেষ ও সাধারণ সবার কাছেই তারা হাস্যস্পদ হয়ে উঠেছে’।[১৭]

ঐক্য (তাকরীব), না-কি বিভ্রান্তি?

বহু মানুষ শী‘আদের সঙ্গে ‘তাকরীব’ তথা সম্প্রীতি বা নৈকট্যের আহ্বানে প্রভাবিত হয়েছে। কিন্তু এখন স্পষ্ট হয়েছে যে, এ আহ্বানের উদ্দেশ্য আহলুস সুন্নাহ ও শী‘আ উভয়কে পরস্পরের কাছাকাছি আনা নয়; বরং আহলুস সুন্নাহকে শী‘আ মতবাদের দিকে নিয়ে যাওয়া। শাইখ মুহিব্বুদ্দীন আল-খতীব (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

إِنَّ اسْتِحَالَةَ التَّقْرِيْبِ بَيْنَ طَوَائِفِ الْمُسْلِمِيْنَ وَبَيْنَ فِرَقِ الشِّيْعَةِ هِيَ بِسَبَبِ مُخَالَفَتِهِمْ لِسَائِرِ الْمُسْلِمِيْنَ فِي الْأُصُوْلِ

‘মুসলিমদের বিভিন্ন দলের সঙ্গে শী‘আ সম্প্রদায়ের প্রকৃত অর্থে ঐক্য বা নৈকট্য প্রতিষ্ঠা অসম্ভব; কারণ মৌলিক আক্বীদার ক্ষেত্রে তারা অন্য মুসলিমদের থেকে ভিন্ন’।[১৮]

এ প্রসঙ্গে আবুল ফাযল আল-বারকাঈ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্য প্রনিধানযোগ্য। যিনি প্রথমে শী‘আ ছিলেন, তবে আল্লাহর রহমতে পরবর্তীতে আহলে সুন্নাহর অনুসারী হয়েছিলেন। তিনি শী‘আ-প্রধান ইরানে বসবাসরত সুন্নীদের অবস্থা উল্লেখ করেন বলেন,

إِنَّهُ فِيْ بَلَدِنَا هَذَا يَسْتَطِيْعُ الْمَسِيْحِيُّ وَالْيَهُوْدِيُّ وَالْعِلْمَانِيُّ وَالَّذِيْ لَا دِيْنَ لَهُ أَنْ يَعِيْشَ بِكُلِّ رَاحَةٍ، أَمَّا أَهْلُ السُّنَّةِ فَلَا رَاحَةَ لَهُمْ فِيْ بَلَدِنَا، وَلَا يَسْتَطِيْعُوْنَ الْعَيْشَ بَيْنَ هَؤُلَاءِ الْمُشْرِكِيْنَ

‘আমাদের এই দেশে একজন খ্রিস্টান, একজন ইহুদী, একজন ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তি কিংবা এমনকি কোন ধর্মে বিশ্বাস না করা মানুষও স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাস করতে পারে। কিন্তু আহলুস সুন্নাহর কোন স্বস্তি নেই; তারা আমাদের দেশে এই মুশরিকদের মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারে না’।[১৯]

(ইনশাআল্লাহ চলবে)


তথ্যসূত্র :
[১]. শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ, মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ ফী নাক্বযি কালামিশ শী‘আ আল-ক্বাদরিয়্যা (জামি‘আতুল ইমাম মুহাম্মাদ ইবনু সাঊদ আল-ইসলামিয়্যাহ, ১ম সংস্করণ, ১৪০৬ হি./১৯৮৬ খ্রি.), ১ম খণ্ড, পৃ. ৪৭৪।
[২]. যিন্দীক (الزندقة): যিন্দীক হল অন্তরে কুফর গোপন রাখা, কিন্তু বাহ্যিকভাবে আমাদের নবী মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর নবুওয়াত স্বীকার করার ভান করা। যিন্দীকের কথাবার্তা ও কর্মকাণ্ড থেকেই তার যিন্দীকত্ব চিহ্নিত হয়। আরও বলা হয়েছে, যিন্দীক হল সেই ব্যক্তি, যার কোন ধর্মই নেই। যিন্দীকত্বের অন্তর্ভুক্ত একটি বিষয় হল আল-ইবাহিয়্যাহ  (الإباحية): এর অর্থ হল- হারাম বিষয়গুলোকে হালাল বলে বিশ্বাস করা এবং এই আক্বীদা পোষণ করা যে, মানুষের ধন-সম্পদ ও নারীদের ইজ্জত-আবরু (বৈধতার সীমারেখা) সবার জন্য যৌথভাবে উন্মুক্ত। অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে, যিন্দীক হল সেই ব্যক্তি, যে কোন শরী‘আতের অনুসরণ করে না এবং কোন ধর্মকেই নিজের জীবনব্যবস্থা হিসাবে গ্রহণ করে না। আর অধিকাংশ ফক্বীহ অর্থাৎ মালিকী ও হাম্বলী মাযহাবের আলিমগণ, হানাফী মাযহাবে এটি প্রকাশ্য (প্রধান) মত এবং শাফিঈ মাযহাবের একটি মতানুসারে মনে করেন যে, যিন্দীকের তাওবা গ্রহণ করা হবে না। এর দলীল হিসাবে তারা আল্লাহ তা‘আলার এ বাণী উল্লেখ করেন: ‘তবে যারা তাওবা করে, সংশোধন করে এবং (সত্যকে) সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করে’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ১৬০)। অর্থাৎ, যিন্দীক যেহেতু কুফর গোপন রেখে ইসলাম প্রকাশ করে, তাই কেবল মৌখিক তাওবার দাবি তার ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়; বরং আন্তরিক সংশোধন ও সত্যকে প্রকাশ করার বিষয়টিও অপরিহার্য। এই কারণেই বহু ফক্বীহ তার প্রকাশ্য তাওবা গ্রহণ না করার মত পোষণ করেছেন। দ্র.: আল-মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিয়্যাহ আল-কুয়েতিয়্যাহ, ৬/১৭৮ এবং ১৪/১২৬ পৃ.।
[৩]. আল-কিফায়াতু ফী ইলমির রিয়াওয়াহ, পৃ. ৪৯।
[৪]. আল-‘আওয়াছিম মিনাল ক্বাওয়াছিম ফী তাহক্বীকী মাওক্বিফিছ ছাহাবা বা‘দা ওয়াফাতিন নাবী (ﷺ), পৃ. ১৮৫।
[৫]. আবূ বকর আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু হারূন ইবনু ইয়াযীদ আল-খাল্লাল আল-বাগদাদী, আস-সুন্নাহ, ৩য় খণ্ড (রিয়াদ: দারুল রাইয়াহ, ১ম সংস্করণ, ১৪১০ হি./১৯৮৯ খ্রি.), পৃ. ৪৯৩, আছার নং-৭৭৯।
[৬]. আস-সুন্নাহ, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৪৯৩, আছার নং-৭৮২।
[৭]. জামালুদ্দীন আবুল মাহাসিন ইউসুফ আল-ওয়াসীতি আশ-শাফেঈ, আল-মুনাযারাতু বাইনাস সুন্নাহ ওয়ার রাফেযাহ (সঊদী আরব: দারু আলে আছ-ছাহাব, ১৪৩১ হি./২০১০ খ্রি.), পৃ. ২৬৬।
[৮]. মুহাম্মাদ আলী আশ-শাওকানী, নাছরুল জাওহার আলা হাদীছি আবী যার (বৈরূত: দারু ইবনি হাযম, ১ম সংস্করণ, ১৪২১ হি./২০০০ খ্রি.), পৃ. ১০৭, ১১১।
[৯]. ইউসুফ ইবনু আব্দুর রহমান ইবনু ইউসুফ, তাহযীবুল কামাল ফী আসমাইর রিজাল, ১ম খণ্ড (বৈরূত: মুওয়াসসাসাতুর রিসালাহ, ১ম সংস্করণ, ১৪০০ হি./১৯৮০ খ্রি.), পৃ. ৩৩৯-৩৪০।
[১০]. আবূ বকর আহমাদ ইবনু আলী আল-খাতীব আল-বাগদাদী, তারীখু বাগদাদ, ১ম খণ্ড (বৈরূত: দারুল গারব আল-ইসলামী, ১ম সংস্করণ, ১৪২২ হি./২০০২ খ্রি.), পৃ. ৫৭৭।
[১১]. আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আলী ইবনু হাজার আল-হাইতামী আস-সা‘দী আল-আনছারী, আছ-ছাওয়াইকুল মুহাররিক্বা আলা আহলির রাফায ওয়ায যালাল ওয়ায যিনদিক্বাহ, ১ম খণ্ড (বৈরূত: মুওয়াসসাসাতুর রিসালাহ, ১ম সংস্করণ, ১৪১৭ হি./১৯৯৭ খ্রি.), পৃ. ১৯৩।
[১২]. আবূ যাকারিয়া মুহিউদ্দীন ইয়াহইয়া ইবনু শরফ আন-নাবাবী, আল-মিনহাজু শারহু ছহীহ মুসলিম, ১৭শ খণ্ড (বৈরূত: দারু ইহইয়াইত তুরাছিল ‘আরাবী, ২য় সংস্করণ, ১৩৯২ হি.), পৃ. ১১৭।
[১৩]. ‘খাশাবিয়্যাহ’(الخشبية)  : এটি রাফেযীদের প্রাচীন নামগুলোর একটি। ইবনু তাইমিয়্যা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যেমন তাদেরকে ‘খাশাবিয়্যাহ’ বলা হত। কারণ তারা বলত, ‘আমরা কোন মা‘ছূম ইমাম ছাড়া তরবারী দিয়ে যুদ্ধ করি না’। তাই তারা কাঠ (লাঠি) দিয়ে যুদ্ধ করেছিল’।  দ্র.: মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ ফী নাক্বযি কালামিশ শী‘আহ আল-ক্বাদারিয়্যাহ, ১ম খণ্ড, পৃ. ৩৬। উল্লেখ্য, এখানে الخشبية (আল-খাশাবিয়্যাহ) শব্দটি خشب (কাঠ) থেকে উদ্ভূত। তাদের এ বক্তব্যের কারণে ‘মা‘ছূম ইমাম ছাড়া আমরা তরবারি ব্যবহার করব না’ তাদেরকে ব্যঙ্গার্থে ‘খাশাবিয়্যাহ’ (কাঠওয়ালা/কাঠ-ব্যবহারকারী দল) নামে অভিহিত করা হত।
[১৪]. আবূ আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ ইবনু আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু হাম্বাল আশ-শাইবাী, আস-সুন্নাহ, ২য় খণ্ড (দাম্মাম, সঊদী আরব: দারু ইবনিল ক্বাইয়িম, ১ম সংস্করণ, ১৪০৬ হি./১৯৮৬ খ্রি.), পৃ. ৫৪৮; আল-ইনতিছারু লিছ ছাহবি ওয়াল আলে মানিফ তারায়াত আস-সামাভী আয-যাল, পৃ. ৯১।
[১৫]. মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ ফী নাক্বযি কালামিশ শী‘আহ আল-ক্বাদারিয়্যাহ, ১ম খণ্ড, পৃ. ১৪।
[১৬]. শামসুদ্দীন আবূ আব্দিল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনু আহমাদ ইবনু উছমান ইবনু কায়মায আয-যাহাবী, তারীখুল ইসলাম ওয়া ওয়াফাইয়াত আল-মাশাহীর আল-‘আলাম, ৫ম খণ্ড (দারুল গারব আল-ইসলামী, ১ম সংস্করণ, ২০০৩ খ্রি.), পৃ. ৬৫৪।
[১৭]. ছাব্বুল ‘আযাবি ‘আলা মিন সাব্বিল আছহাবী, পৃ. ৩২৩।
[১৮]. মুহিবুদ্দীন আবুল ফাত্হ ইবনু আব্দুল ক্বাদির, আল-খুতূতুল ‘আরীযাহ লিল-উসসিসাল্লাতী ক্বামা ‘আলাইহা দ্বীনুশ শী‘আতিল ইমামিয়্যাতিল ইছনা ‘আশারিয়্যাহ (প্রকাশনা ও সাল বিহীন), পৃ. ৪৩।
[১৯]. আশ-শী‘আতু হুমুল ‘আদুউউ ফাহযারহুম, পৃ. ১৮৭।


facebook sharing button
twitter sharing button
pinterest sharing button
email sharing button


প্রসঙ্গসমূহ »: ভ্রান্ত মতবাদ

এ বিভাগের আরও প্রবন্ধ

প্রশ্নোত্তরে আরকানুল ইসলাম
Copyright ©2019-2026 Monthly Al-Ikhlas, Powered By Islamic Research And Reformation Centre. | CloudServerBD | Designed by Ginilab Ltd.

Comments

|| Popular Posts ||

রোম বা রোমান কারা? _ The Story of Roman

The Story of The Aad And The Thamud Nation_ Qur'an Tafseer

আল-ইতিছাম pdf download _ al itisham

আলিফ-লাম-মীম।* _ সূরা ২. আল-বাকারা আয়াত নং ১ _ tafseer

মৃত্যুর সময় যে আপসোস রয়ে যাবে! :

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর ছালাত বনাম প্রচলিত ছালাত

Moving the finger during Tashahhud _ Important Masala-Masael,

Bilqis(Queen of Sheba): Tafseer of Ibn katheer : Qur'anic Story

√√√√40 short hadiths filled with wisdom°°°°

Everyday life Dua _daily dua